দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
প্রথম পাতা ›  দ্বি পাক্ষিক সম্পর্ক  ›  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

***

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

 

ভারত সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে এর স্বাধীনিতার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সাথে কূটনৈতিকসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক সভ্যতাকেন্দ্রিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক। এর বাইরেও যে বিষয়গুলো দুই দেশকে এক করেছে সেগুলো হলো-অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, সংগীতের প্রতি অনুরাগ, সাহিত্য এবং শিল্প। এই মিল প্রতিফলিত হয় আমাদের বহুমুখী ও বিস্তৃত সম্পর্কের মাধ্যমে।গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দুই দেশ তাদের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করে চলেছে এবং সব ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উন্নয়নে সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। 

উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়

নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সফর ও বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারি ২০১৪ ও মে ২০১৪ প্রত্যেক দেশের নতুন সরকার গঠনের পর ২৭ সেপ্টেম্বর২০১৪ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড নেশন্স জেনারেল আসেম্বলী (ইউএনজিএ)-এর ৬৯তম আসরের সাইডলাইনে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশেরপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে প্রথমবার সাক্ষাত করেন। ২৫-২৭ জুন ২০১৪ শ্রীমতি সুষমা স্বরাজ পরাষ্ট্রমন্ত্রীর এবং ২৪ আগস্ট ২০১৪ জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ভি.কে. সিং পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্ব প্রথম বৈদেশিক সফর করেন। ৬-৭ জুন ২০১৫ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন। সফরকালীন সময়ে ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ড বাউন্ডারি এগ্রিমেন্ট(এলবিএ)-এর সরঞ্জাম বিনিময়সহ ২২টি দ্বিপাক্ষিক দলিল চূড়ান্তকরণ করা হয়। ১৯ আগস্ট ২০১৫ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাননীয়রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জীর স্ত্রী শ্রীমতী শুভ্রা মুখার্জীর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগদানের জন্য নিউ দিল্লী সফর করেন। ১৬-১৭ অক্টোবর ২০১৬ বিআরআইসিএস-বিআইএমএসটিইসিআউটরিচ সামিট-এ যোগদানের জন্য তিনি আবার ভারত সফর করেন। তিনি সামিটের সাইডলাইনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ নিউইয়র্কেইউএনজিএ-এর সাইডলাইনে উভয় প্রধানমন্ত্রীই সাক্ষাৎ করেন।

২০১৩ সালের মার্চে মাননীয় রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফর করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বৈদেশিক সফর। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ ৪২ বছরপরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে মাননীয় রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুল হামিদ প্রথম ভারত সফর করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান/সরকার প্রধান পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফর সমূহের তালিকা দেয়া আছে হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে। 

দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াসমূহ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পঞ্চাশটিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। পররাষ্ট্র/বৈদেশিক বিষয়াবলী মন্ত্রীবর্গের পরিচালনায় একটি যৌথ কনসাল্টেটিভ কমিশন(জেসিসি) দুই দেশের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ নতুন দিল্লীতে ৩য় জেসিসি অনুষ্ঠিতহয়। ১৯৭১ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া সমূহ ও দ্বিপাক্ষিক দলিল সমূহের তালিকা হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। 

নিরাপত্তা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা 

দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শান্তি বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে আন্তঃ-সীমান্ত অবৈধ কার্যক্রম ওঅপরাধের উপর আরও কার্যকরী নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই দেশের বর্ডার গার্ডিং ফোর্সের প্রচেষ্টাকে সম্পৃক্তকরণের উদ্দেশে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত কোয়ার্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্টপ্ল্যানও (সিবিএমপি)-এর অন্তর্ভুক্ত। 

ভারত ও বাংলাদেশের ৪০৯৬.৭ কিমি সীমান্ত রয়েছে যা যে কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তুলনায় ভারতের ভাগ করে নেয়া দীর্ঘতম স্থল সীমানা। জুন ২০১৫ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশসফরকালে অনুমোদিত বিষয়াদী বিনিময় সাপেক্ষে ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমানা চুক্তি (এলবিএ) আরও জোরদার হয় । ৩১ জুলাই ২০১৫ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহলগুলোরবিনিময় হয় এবং স্ট্রিপ মানচিত্র স্বাক্ষরিত হয়। ৩১ জুলাই ২০১৫ পূর্ববর্তী ছিটমহলগুলোর বাসিন্দা যারা ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রাখতে মনঃস্থির করেছেন তারা ভারতের উদ্দেশেতাদের শেষ যাত্রা করেন। ৭ জুলাই ২০১৪ ইউএনসিএলওএস অ্যাওয়ার্ড অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ নিষ্পত্তি বঙ্গোপসাগরের এই অংশের অর্থনৈতিকউন্নয়নের পথ সুগম করে এবং উভয় দেশের জন্যই এটি মঙ্গলকর। 

নদীর পানি বন্টন 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪ টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৭২ সালের জুন থেকে একটি দ্বিপাক্ষিক যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলো থেকে প্রাপ্তসুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশে যোগাযোগ রক্ষার জন্য কাজ করছে। শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি ১- মে ৩১) গঙ্গার পানি বণ্টনের জন্য ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিসন্তোষজনকভাবে কাজ করছে।  

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

গত কয়েক বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬(জুলাই-জুন) অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪৫২.৯০ মিলিয়ন মার্কিনডলার। ৫ বছরে (আর্থিক বছর ২০১১-২০১২ থেকে ২০১৫-১৬) দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য ১৭%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান সম্পর্কে বিস্তারিত হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে।

এসএএফটিএ, এসএপিটিএ এবং এপিটিএ-এর অধীনে বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। অধিকন্তু, অন্যান্য জিনিসের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে ২০১১ সালথেকে ভারতের না-তালিকা থেকে ২৫টি পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের ওপর সব ধরণের শুল্করেখাও পরিহার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়গুলোর সুবিধার জন্য চারটি সীমান্ত-ফাঁড়িপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মধ্যে ত্রিপুরায় দুইটি এবং মেঘালয়ে দুইটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরো কিছু সীমান্তফাঁড়ির প্রস্তাবণা দেয়া হয়েছে এবং এগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়াবলী সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া আছে হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে। 

বাংলাদেশকে প্রদেয় ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা

জানুয়ারি ২০১০-এ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে ভারত বাংলাদেশের জন্য এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাইন অফ ক্রেডিট ঘোষণা করে। প্রথম এলওসি-এরআওতায় এই প্রজেক্টগুলোর প্রায় সব সম্পন্ন হয়েছে । ২০১৫-এর জুনে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাংলাদেশ সফরকালে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন আরেকটি এলওসিঘোষণা দেন। নতুন এলওসি সড়ক, রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, নৌ, এসইজেড, স্বাস্থ ও মেডিকেল সেবা এবং কারিগরী শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গুলো বাস্তবায়ন করবে। দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নসহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। 

বিদ্যুৎ জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

২০১০ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমানে দুইটি আন্তঃসংযোগ-এর মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ স্থানান্তর হয়। সম্প্রতি বহরমপুর-ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ দিয়ে ৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ এবং আরেকটি ১০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ স্থানান্তরিত হয় সুরজমনিনগর(আগরতলা)-কুমিল্লা আন্তঃসংযোগ দিয়ে। ২০১৫ সালের জুনে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বহরমপুর-ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ দিয়ে অতিরিক্ত আরও৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ প্রদানে সম্মত হন। ২০১৬সালের মার্চে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায়  ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি এবং ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লায় বিদ্যুৎরপ্তানির উদ্বোধন করেন। রামপালে ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন(এনটিপিসি) এবং  বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড(বিপিডিবি)-এর ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগেএকটি ১৩২০ মেগা ওয়াট জ্বালানি কয়লা মৈত্রী থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট-এর কাজ চলছে। ভারতের অনেক বেসরকারী কোম্পানি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রতি বেশ উত্সাহী। গত দুইবছর যাবৎ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন, নুমালিগড় রিফাইনারী লিমিটেড, গ্যাস অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ালিমিটেড, পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড-এর মত অনেক সরকারী ইউনিটগুলো তাদের বাংলাদেশী তেল ও গ্যাস খাতের অনুরূপ ইউনিটগুলোর সাথে কাজ করছে।অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সাথে ৫০-৫০ সহযোগিতায় ওএনজিসি বিদেশ লিমিটেড এসএস-০৪ এবং এসএস-০৯ নামে বাংলাদেশে দুইটি অগভীর জলের ব্লক পরিচালনা করছে এবংবর্তমানে এই ব্লক গুলোতে পরীক্ষামূলক কাজে নিয়োজিত আছে। 

যোগাযোগ

সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে পণ্য পরিবহন পরিচালিত হয় ২০টি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনস(এলসিএস) দিয়ে এবং আরও ২০টিরও বেশি চালুর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই ২০১৬-তেদুই প্রধানমন্ত্রী পেট্রাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট(আইসিপি)-এর উদ্বোধন করেন, যেটি মানুষ ও পণ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচলের জন্য সুবিধাজনক হবে। ফেব্রুয়ারি ২০১৬-তেফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা বহিরাগমন চেক পোস্ট চালু হয় শ্রীমন্তপুরে জানুয়ারি ২০১৬-তে এলসিএস-এরও উদ্বোধন করা হয়।

১৯৭২ সাল থেকে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রেড এন্ড ট্রানজিট (পিআইডব্লিউটিটি) চালু রয়েছে। এটি বাংলাদেশের নদীপথের আটটি বিশেষ রুট দিয়ে জাহাজ/বড় নৌকায়মালামাল পরিবহনের অনুমতি প্রদান করে। জুন ২০১৫ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে পুনঃ পুনঃ নবায়নের শর্তে পিআইডব্লিউটিটি ৫ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়।পিআইডব্লিউটিটি-এর আওতায় ২০১৬ সালের জুনে আশুগঞ্জ নদীবন্দর দিয়ে এবং পরবর্তীতে আখাউড়া-আগরতলা দিয়ে সড়কপরথে ভারতের দক্ষিণপূর্ব প্রদেশে পণ্য ট্রানশিপমেন্টচালু হয়েছে । ভারত ও বাংলাদেশে উপকূলীয় জাহাজ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধম্যে উপকূলীয় জলপথ দিয়ে যোগাযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতা এবং ঢাকার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন 'মৈত্রী এক্সপ্রেস' সপ্তাহে ৩দিন চলাচল করে। ৬টি রেল সংযোগের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ৩টি আন্তঃদেশীয় ব্রডগেজ রেলসংযোগ চালুআছে। কলকাতা-ঢাকা, শিলং-ঢাকা এবং ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা নিয়মিত বাস সেবা চালু রয়েছে। আগস্ট ২০১৬ খুলনা-কলকাতা বাস সেবার পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হয়েছে।ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সাথে নিউ দিল্লী, কলকাতা ও বুম্বাই -এর নিয়মিত বিমান সংযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন)-এর মধ্যে মটর ভিয়াকল এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) উল্লেখযোগ্যভাবে সড়ক যোগাযোগকে জোরদার করবে। আগস্ট ২০১৬-তে ঢাকা হয়েকলকাতা থেকে আগরতলা এবং কলকাতা ও লখনৌ হয়ে ঢাকা থেকে নিউ দিল্লীর মধ্যে ট্রাকে পরীক্ষামূলক মালামাল পরিবহন করা হয়েছে। যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। 

কারিগরি সহযোগিতা

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটিইসি পার্টনার দেশ এবং বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য অংশগ্রহণকারী আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় প্রশিক্ষিণ কোর্সে যোগদান করে। আইটিইসিপ্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে।

উপরন্তু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, শিক্ষক ইত্যাদির কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ কোর্সের আয়োজন করে। 

সাংস্কৃতিক বিনিময়

২০১০ থেকে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) ঢাকায় নিয়মিত ভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করে যাচ্ছে। আইজিসিসি যোগব্যাম, হিন্দি, হিন্দুস্তানী ক্লাসিক্যালসংগীত, মনিপুরী নৃত্য এবং চিত্রাঙ্কন-এর উপরও নিয়মিত ভাবে কোর্সের আয়োজন করে। এই কোর্স গুলো বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ২০১১ থেকে আইজিসিসি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যাগোর চেয়ার পরিচালনা করে আসছে। আইজিসিসি প্রতিবছর বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানবিক, বিজ্ঞান, প্রকৌশল এর উপর সাধারণ কোর্স এবং সংস্কৃতি,নাটক, সংগীত, চারুকলা এবং খেলাধুলা ইত্যাদির উপর বিশেষ কোর্সে স্কলারশিপ প্রদান করে। ২০১২ থেকে প্রতিবছর একটি ১০০-মেম্বার ইয়্যুথ ডেলিগেশন ভারত সফর করে। গত ৪৩বছর ধরে ভারতীয় হাই কমিশন 'ভারত বিচিত্রা' নামে বাংলা মাসিক সাহিত্য ম্যাগাজিনের মুদ্রিত ও ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ প্রকাশ করে আসছে। ম্যাগাজিনটি বাংলাদেশে একটি অন্যতমম্যাগাজিন হিসেবে বিবেচিত এবং সমাজের সকল ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক চাহিদা। সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম ও বিনিমিয়ের উপর বিস্তারিত হাই কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। 

বাংলাদেশে ভারতীয় সম্প্রদায়

বাংলাদেশে প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় নাগরিক বসবাস করে বলে ধারণা করা হয়। এদেরমধ্যে বেশিরভাগই তৈরী পোশাক শিল্পে (আরএমজি) অথবা এমএনসি এবং ভারত অথবাবাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর চাকরিতে নিয়োজিত। 

ভারতীয় হাই কমিশন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যের উৎসগুলো নিম্নরূপ:

ওয়েবসাইট: www.hcidhaka.gov.in

ফেসবুক: https://www.facebook.com/IndiaInbangladesh

টুইটার: https://twitter.com/ihcdhaka

ইউটিউব: https://www.youtube.com/user/HCIDhaka

ভারত বিচিত্রা (আইএসএসইউইউ): https://issuu.com/hcidhaka

বাংলাদেশে ভারতীয় সহ্কারী হাই কমিশন (এএইচসি)

(চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে): https://www.hcidhaka.gov.in/pages.php?আইডি=১৬

ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র, বাংলাদেশ- http://www.ivacbd.com/

ভারতে বাংলাদেশী হাই কমিশন- http://www.bdhcdelhi.org/

কলকাতা, বুম্বাইয়ে বাংলাদেশী ডেপুটি হাই কমিশন এবং আগরতলা, গোয়াহাটিতে সহকারী হাই কমিশন

 
 
 


Address: High Commission of India
Plot No. 1-3, Park Road, Baridhara, Dhaka 1212
Working hours: 0900 to 1730 hrs
(Sunday to Thursday)
Telephone Numbers: 00880-2-55067647
EPABX : 00880-2-55067301-308 and 55067645-649
Fax Number: 00880-2-55067361
Copyright policy | Terms & Condition | Privacy Policy |
Hyperlinking Policy | Accessibility Option | Help

© High Commission of India, Bangladesh 2013. All Rights Reserved.
Powered by: Ardhas Technology India Private Limited.