ঢাকা- কোলকাতা...
প্রথম পাতা ›  বিবৃতি ও বক্তৃতা  ›  ঢাকা- কোলকাতা মৈত্রী...

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

ঢাকা- কোলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস (সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেবা)-এর  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাইকমিশনারের বক্তব্য

[১৪ এপ্রিল ২০১৭]

মাননীয় রেলমন্ত্রী জনাব মো. মুজিবুল হক

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন

এডিজিবৃন্দ

বিশিষ্ট অতিথিগণ

এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,

বাংলা ১৪২৪ সনের পহেলা বৈশাখে ঢাকা-কোলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে আমি খুবইআনন্দিত। মৈত্রী এক্সপ্রেস এখন থেকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেবা প্রদান করবে।

২.         ৪৫৬ আসনের নতুন এই ট্রেনটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেণির চারটি কোচ এবং চারটি এসিচেয়ার কোচ থাকবে। মোট ৪৫৬ যাত্রী এখন থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আরামদায়ক ভ্রমণ করতেপারবেন। এই কোচগুলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারপ্রথম ঋণের (লাইন অব ক্রেডিট) আওতায় এগুলি ক্রয় করেছে। ২০০৮ সালের পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথমচালু হওয়া মৈত্রী এক্সপ্রেস সপ্তাহে একবার চলাচল করা থেকে উন্নীত হয়ে বর্তমানে সপ্তাহে চারদিন চলাচলকরছে। মৈত্রী এক্সপ্রেসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০১৫-১৬ সালে (এপ্রিল-মার্চ) ৯৮,৩২২যাত্রী মৈত্রী এক্সপ্রেসের সেবা গ্রহণ করেছেন এবং ২০১৬-১৭ সালে (এপ্রিল-মার্চ) এই ভ্রমণ সেবা গ্রহণকারীযাত্রীর সংখ্যা শতকরা ১৯ ভাগ বেড়ে হয়েছে ১,১৫,০৬১ জন।

৩.        বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াতকারী প্রবীণ নাগরিক ও রোগীদের কাছে মৈত্রী এক্সপ্রেসবিশেষভাবে জনপ্রিয়। রেলপথ খাত ভারত ও বাংলাদেশ দুটি বন্ধু দেশের সরকারদের মধ্যে একটি অসাধারণসম্পর্কের অনন্য উদাহরণ। আপনারা জানেন যে গত ৮ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয় খুলনা-কোলকাতাএক্সপ্রেসের পরীক্ষামূলক চলাচল উদ্বোধন করেন এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চতুর্থ রেলসংযোগটিরওআনুষ্ঠানিক উদ্বোধন  করেন। আমরা আশা করছি খুলনা-কোলকাতা রুটে নিয়মিত রেল চলাচল এ বছরেরমধ্যেই শুরু করতে পারবো।

৪.        আমি এটি জানাতে পেরে আনন্দিত যে মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীসেবা আরও আরামপ্রদ করার জন্যএই বছরের মধ্যে শুল্ক ও অভিবাসন সমস্যা নিরসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি মৈত্রী এক্সপ্রেসেভ্রমণকারী যাত্রীদের, ভ্রমণকালে যাঁদের দর্শনা ও গেদে উভয় স্টেশনেই নামতে হয়, দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবকরবে। ভ্রমণের সময়সীমা বর্তমানের ৯ ঘন্টা থেকে প্রায় ৬ ঘন্টায় নেমে আসবে।

৫.        এই শুভদিনে আমার ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা মনে পড়ছে, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতউভয় দেশের জনগণ এই দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতেরপ্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা উভয় দেশের জনগণ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বর্তমানেবঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা আশা করি যে এই সুন্দর সম্পর্ক স্মরণাতীতহয়ে থাকবে।

৬.       আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে মাননীয় রেলমন্ত্রী অনুগ্রহ করে এই অনুষ্ঠানে এসেছেন। ইনি একজন অভিজ্ঞরাজনীতিবিদ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একজন মহান প্রবক্তা। ভবিষ্যতেও তাঁর দিক নির্দেশনাঅব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

৭.         এই কথাগুলো বলে আমি শেষ করছি এবং এখানে উপস্থিত প্রত্যেককে আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

*****

 
 
 


ঠিকানা: ভারতীয় হাই কমিশন
প্লট নং. ১-৩, পার্ক রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২
কর্ম ঘন্টা: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত
(রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত)
টেলিফোন নম্বরসমূহ: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬৪
ইপিএবিএক্স: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩০১-৩০৮ এবং +৮৮০-২-৫৫০৬৭৬৪৫-৬৪৯
ফ্যাক্স নম্বর: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬১