খুলনায়...

১০ জুলাই ২০১৭ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে হাই কমিশনারের ভাষণ

(স্থান: সার্কিট হাউস, খুলনা সময়: সকাল ১১টা) 

  • বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ড. মশিউর রহমান
  • বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট মো. এনায়েত আলী
  • বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব শেখ হারুনুর রশিদ
  • বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনা শহর কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির
  • বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা, জনাব মো. আব্দুস সামাদ
  • জেলা প্রশাসক, খুলনা, জনাব মো. আমিনুল আহসান
  • মুক্তিযোদ্ধা একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ
  • প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জে এস নন্দা, এসএম
  • বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ,
  • মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসুরীবৃন্দ,
  • গণমাধ্যমের সদস্যগণ,
  • ভারতীয় হাই কমিশনের সহকর্মীবৃন্দ 

সর্বপ্রথমে আমি আপনাদের সকলকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসে মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

ভারত সরকার ২০০৬ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসুরীদের  জন্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১০০০০-এর বেশি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে যার আর্থিক মূল্যমান ১৫ কোটি টাকা। 

এই বছর ৬০০-এরও বেশি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের পাঁচটি বিভাগের ৫৭০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছি। আজ খুলনা অঞ্চলের ৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে আমরা বৃত্তির চেক বিতরণ করবো। 

সম্প্রতি ভারত সফরকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী ভারতীয় শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। গত ৮ এপ্রিল ফিল্ড মার্শাল মানেকশ’ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে যেভাবে ৭ শহীদকে সম্মান জানানো হয়েছে তেমনিভাবে বাকী ১৬৫৪ শহীদকেও পরবর্তী মাসগুলোতে পর্যায়ক্রমে সম্মানিত করা হবে। 

আমি এটি জানাতে পেরে আরও আনন্দিত যে উক্ত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনটি কল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন।

  • এখন থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধা মাল্টিপল-এন্ট্রিসুবিধাসমেত পাঁচ-বছর মেয়াদী ভারতীয় ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
  • ভারতের হাসপাতালগুলোতে প্রতি বছর ১০০ মুক্তিযোদ্ধাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
  • মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প আরও পাঁচ বছরের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছে যার আওতায় আরও ১০০০০ শিক্ষার্থীকে ৩৫ কোটি টাকার মূল্যমানের বৃত্তি প্রদান করা হবে। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের ১০০০ শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এককালীন ২০০০০ টাকা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৫০,০০০ টাকা করে পাবেন। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত এইসব উদ্যোগ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আমাদের চলমান সংহতির প্রতিফলন। 

বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনারা একসাথে রক্ত দিয়েছিল। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এটি শক্তিশালী সম্পর্কের বীজ বপন করেছিলেন। 

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আশা করি আমাদের এই সম্পর্ক চিরদিন অবিচ্ছেদ্য থাকবে।

 এই অনুষ্ঠানে, আমি স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী দুই দেশের মহান শহীদদের আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। 

খুলনা আমাদের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে আমরা যেসব কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি সেগুলো হচ্ছে: 

  • খুলনায় আমরা খুব শীঘ্রই একটি সহকারী হাই কমিশন চালু করতে যাচ্ছি।
  • ভারত সরকার কৈলাসপুর কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন স্থাপনের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বারো কোটি টাকা মূল্যমানের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।
  • গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে আমাদের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় খুলনা-কোলকাতা সরাসরি ট্রেন ও বাস সেবা উদ্বোধন করেছেন।
  • ভারত সাফল্যের সাথে খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপনের কাজ করছে।
  • ভারত সরকার মংলা বন্দরের উন্নয়নেও কাজ করবে।
  • ভারত সরকার খুলনায় একটি দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিষ্ঠানও তৈরি করছে। 

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ড. মশিউর রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের খুলনা সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। 

আমি আরও একবার জনাব ড. মশিউর রহমান, উপস্থিত সুধীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বৃত্তি গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

সকলকে ধন্যবাদ। 

জয় হিন্দ্-জয় বাংলা।। 

****

 
 
 


ঠিকানা: ভারতীয় হাই কমিশন
প্লট নং. ১-৩, পার্ক রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২
কর্ম ঘন্টা: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত
(রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত)
টেলিফোন নম্বরসমূহ: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬৪
ইপিএবিএক্স: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩০১-৩০৮ এবং +৮৮০-২-৫৫০৬৭৬৪৫-৬৪৯
ফ্যাক্স নম্বর: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬১