৪র্থ সেপ ইন্ডিয়া...
প্রথম পাতা ›  নৌপথ ও নৌ চলাচল  ›  ৪র্থ সেপ ইন্ডিয়া শিক্ষা...

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

৪র্থ সেপ ইন্ডিয়া শিক্ষা মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনারের ভাষণ

[ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০১৭]  

মি. সঞ্জয় থাপা, প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেপ ইভেন্টস এন্ড মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড

অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ

সংবাদ মাধ্যম থেকে আগত বন্ধুগণ,

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ

সকলকে নমস্কার, আসসালামু আলাইকুম ও শুভ সকাল 

  • বন্ধুগণ, শুরুতেই আমি আমাদের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মি. সঞ্জয় থাপাকে ৪র্থ সেপ ইন্ডিয়া শিক্ষা মেলা আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি আপনাদের সাথে এটি ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দিত যে এই অঞ্চলে ভারত শিক্ষা মেলাসমূহ আয়োজন করায় সঞ্জয় ছিলেন পথিকৃৎ . . এবং গত চার বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। আমি অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই যে গুলশান ট্র্যাজেডির পর পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির থাকা সত্ত্বেও সঞ্জয় গত বছর মেলা আয়োজন করে দৃষ্টান্তমূলক আস্থার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই বছর তিনি ভারতের ৪০টিরও বেশি নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন এবং আমি নিশ্চিত যে গত বছরের মতো এই বছরের শিক্ষা মেলাও বিপুল সাফল্য অর্জন করবে। 
  • বন্ধুগণ, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই দ্রুত অগ্রগতির পথে রয়েছে এবং শিক্ষা হচ্ছে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা গুণগতভাবে আমাদের প্রগতির গতিবেগ ও মর্মার্থ নির্ধারণ করবে। কথায় বলে, জ্ঞানই শক্তি। আমি বলব জ্ঞান হচ্ছে ব্যক্তির কর্মজীবন, জীবন এবং কার্যত বেঁচে থাকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের দ্বার। উন্নয়নের সড়কে আমাদের জাতিগুলিকে চালিয়ে নেয়ার জন্য পরিপূর্ণ শিক্ষা হচ্ছে একটি আবশ্যিক উপাদান। 
  • এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের অনন্য জনসংখ্যার কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যাদের ৭০ ভাগেরও বেশির বয়স ৪০ বছরের নিচে। এই তরুণদের শুধুমাত্র ভাল শিক্ষা প্রদানই নয় বরং সেই অনুসারে তাদের লাভজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটাও অত্যাবশ্যক। ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি বড় মাপের অবকাঠামো রয়েছে। ২০১৪-১৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ছিল ৪৩টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ৩১৬টি রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১২২টি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠান, এবং ১৮১টি রাজ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতে মোট ৩৮,৪৯৮টি মহাবিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয় পর্যায়ে, ভারতে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫১৬৮৬৫টি যার মধ্যে ৮৪৭১১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২৫০৯৪টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩৫৩৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১০৯৩১৮টি সিনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া, ভারতে ১২২৭৬টি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলি বিভিন্ন বিষয়ে যেমন কারিগরি, স্বাস্থ্য পরিসেবা, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকতা ইত্যাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে থাকে। বর্তমানে এই সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। 
  • সম্প্রতি, এমএইচআরডি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল রেংকিং ফ্রেমওয়ার্ক (এনআইআরএফ) অনুমোদন করেছে যা সারা দেশে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলির মান অনুযায়ী ক্রম নির্ধারণের জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ক্রমমান নির্ধারণের মাপকাঠিগুলো নির্ণয়ের লক্ষ্যে এমএইচআরডি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি কোর কমিটি দ্বারা পরিচালিত সামগ্রিক সুপারিশমালার বিস্তৃত সমঝোতা থেকে রূপরেখাটি তৈরি করা হয়েছে। এই মাপকাঠিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘শিক্ষণ, শিক্ষা এবং সম্পদ’, ‘গবেষণা এবং পেশাগত অনুশীলন’, স্নাতক ফলাফল’, ‘আউটরিচ ও ইনক্লুসিভিটি’ এবং ‘বাস্তববোধ’। আমি জেনে আনন্দিত যে এই মেলায় অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই সর্বজনস্বীকৃত এবং ভাল এনআইআরএফ মান সমৃদ্ধ। 
  • বন্ধুগণ, বলা বাহুল্য যে, আমাদের বৈদেশিক নীতিও অন্যান্য দেশের মতো আমাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে বিনিময় আমাদের সম্পর্কে একটি নব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির ঐতিহাসিক সফরকালে ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তিসহ ২২টি চুক্তি হয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে ২০১৫ সালে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘কৌশলগত অংশিদারিত্ব’ অতিক্রম করে দুটি দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর সফরকালে বিভিন্ন খাত যেমন সংযোগ, উন্নয়ন ও অবকাঠামো, উচ্চ-প্রযুক্তিগত খাত যথা তথ্য প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাশূন্য, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ইত্যদিতে আমাদের অংশিদারিত্ব শক্তিশালী করে রেকর্ডসংখ্যক ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়। শিক্ষা হচ্ছে আরেকটি খাত যেখানে আমাদের দুটি দেশ একসঙ্গে একটি সুসঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি ও মনোনিবেশে কাজ করছে। ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা দ্বিপাক্ষিক সহায়তা কর্মসুচি অথবা স্ব-অর্থায়ন প্রকল্পের অধীনে একে অপরের দেশে অধ্যয়ন করছে। 
  • ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে (৬-৭ জুন ২০১৫) দুটি দেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে ক্রমবর্ধমান এই সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে শিক্ষাখাতে সহযোগিতার জন্য একটি ‘অভীষ্ট বিবৃতি’প্রকাশ করে। 
  • এই অভীষ্ট বিবৃতিতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিময় এবং যৌথ সহযোগিতার পাশাপাশি দুটি জাতির মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধানে একটি ‘উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপ’ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কথা বলা হয়েছে। 
  • তার অংশে, ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা আমাদের বিভিন্নœ প্রকল্প ও উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি চাকুরিজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা ও অগ্নি-নির্বাপক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলভাবে জনপ্রিয় আইসিসিআর শিক্ষাবৃত্তি এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আইটেক কর্মসূচি। 
  • সম্প্রতি, ভারত সরকার আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের স্বীকৃতিস্বরপ মেধাবী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউটস অফ টেকনোলজি (আইআইটি)গুলোতে যোগদান করা এবং পাশাপাশি ঢাকায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, বিভিন্ন কোর্স যেমন গ্যাট ও জেইই (এ্যাডভান্সড), ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সহজ করার সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
  • একইভাবে, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউটস অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম)গুলিও এইসব সেরা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে চায় এমন আগ্রহী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের দরজা খোলা রেখেছে। আইআইএম-আহমেদাবাদ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের প্রধান এমবিএ কোর্স অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর কর্মসূচি চালু করেছে। এ উপলক্ষে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইআইএমএ-র একটি দল ঢাকা সফর করেছে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছে। 
  • সম্প্রতি এনআইআইটি, ভারতের একটি প্রখ্যাত ও স্বনামধন্য তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশে তার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং মাত্র গতকাল উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সাইন্সেস কেআইএসএস) ঢাকাভিত্তিক ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সাইন্সেস (ডিআইএসএস)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। 
  • বাংলাদেশ থেকে আমাদের বন্ধুদের জন্য ভারতে অধ্যয়ন করার অনেক সুবিধা রয়েছে। শুধুমাত্র উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাড়ির কাছাকাছি থাকার সুযোগই নয়, বরং আপনি আরও পাচ্ছেন অভিন্ন সংস্কৃতি, অনুরূপ খাদ্যাভ্যাস এবং  মৌলিক আদর্শের সুবিধা। ভারতে অধ্যয়ন করা সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ঐতিহ্যগতভাবে বিখ্যাত এইসব শিক্ষা কেন্দ্র ছাড়াও আমাদের রয়েছে প্রচুর ‘যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান’ যেগুলি অভিনব অ-প্রথাগত কোর্স-এ অধ্যয়নের পাশাপাশি অপরিমেয় কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করছে।  এরকমেরই কিছু প্রতিষ্ঠান আজ এখানে প্রতিনিধিত্ব করছে। যখন তরুণ বাংলাদেশিরা ভারতে পড়তে যান, তখন তারা কেবল বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষালাভই করেননা, যেমনটি অনেকেই এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন, বরং তারা অধিক গুরুত্বসহকারে ‘ভারতীয় জীবনধারা’য় প্রকাশিত হন এবং ভারতে সারাজীবনের জন্য বন্ধুত্ব করেন। আমরা উপলব্ধি করি যে আগামীদিনের এইসব নেতা বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলবে যা আমাদের জাতিকে শান্তি, প্রগ্রতি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করবে।  
  • ভারতে অধ্যয়ন করতে আগ্রহী আমাদের এমন বাংলাদেশী বন্ধুদের আমি অবহিত করতে চাই যে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের নিয়মাবলী শিথিল করেছি এবং ভারতের প্রতিষ্ঠানে তারা একবার ভর্তি হওয়ার পর তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভিসা দিচ্ছি। আমরা তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদেরও ভারত সফর করতে উৎসাহিত করছি যাতে তারা চাক্ষুষ করতে পারেন যে তাদের সন্তানেরা কতটা ভালভাবে অগ্রসর হচ্ছে, আমাদের মহান দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের পাশাপাশি বিশ্বমানের শিক্ষার ‘ভারত অভিজ্ঞতায়’তারা অবগাহন করছে। 
  • পরিশেষে, আমি বাংলাদেশ থেকে আমার তরুণ বন্ধুদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভারতকে তাদের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত যে এটি তাদের জীবন ও কর্মজীবনে সাফল্যের শক্তিশালী ভিত তৈরি করার পথ সুগম করবে। সকলকে ধন্যবাদ। 

*****

 

 
 
 


ঠিকানা: ভারতীয় হাই কমিশন
প্লট নং. ১-৩, পার্ক রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২
কর্ম ঘন্টা: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত
(রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত)
টেলিফোন নম্বরসমূহ: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬৪
ইপিএবিএক্স: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩০১-৩০৮ এবং +৮৮০-২-৫৫০৬৭৬৪৫-৬৪৯
ফ্যাক্স নম্বর: +৮৮০-২-৫৫০৬৭৩৬১