বার্ষিক মিডিয়া রিসেপশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য Statements & Speeches

বার্ষিক মিডিয়া রিসেপশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

বার্ষিক মিডিয়া রিসেপশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য

৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শুভ সন্ধ্যা।

ভারতীয় হাই কমিশনের চতুর্থ annual মিডিয়া রিসেপশনে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। এই informal আয়োজনে আজ আপনাদের সকলের সাথে পরিচিত হয়ে আমি আনন্দিত। আপনারা সবাই জানেন যে, আমি পূর্বে বাংলাদেশে Press, Information & Culture বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। স্বাভাবিকভাবেই মিডিয়ার জন্য আমার মনে একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। আমি আজ অনেক পরিচিত ও নতুন মুখ দেখতে পাচ্ছি। আমি সেই বন্ধুদের অনুপস্থিতি অনুভব করছি যাঁরা আমাদের মাঝে আর নেই। আমরা গত কয়েক বছরে মিডিয়াতে যারা আমাদের নতুন বন্ধু হয়েছেন তাদের include করার জন্য আমাদের invitation list বড় করেছি।

2. আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, বাংলাদেশের মিডিয়া খুব প্রাণবন্ত। স্বাধীন ও মুক্ত আলোচনা, আড্ডা-তর্ক-বিতর্ক জনমত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, জনগণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করে এবং এর ফলে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখে। একই সাথে, যে দায়িত্বগুলো আপনাদের কাঁধে রয়েছে সেগুলো অনেক বড়। কারণ, আপনারা যা লেখেন বা প্রচার করেন তা সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একটি বিষয়ের সামগ্রিক ও balanced উপস্থাপনা হয়ত একে sensational করে তুলবে না বা TRP বাড়িয়ে তুলতে পারে না, কিন্তু এটি আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। আপনাদের বিষয়বস্তু হওয়া উচিত সত্য, নির্ভুল, objective & balanced।

3. আমাদের ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ফলে দু’দেশের জন্য যে সব সম্ভাবনা এবং সুযোগ রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরতে মিডিয়ার একটি important role রয়েছে। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধন, দুই দেশের সংগীত, সাহিত্য এবং শিল্পকলার জন্য আমাদের যে অনুরাগ তাতে দু'দেশের প্রিন্ট এবং টেলিভিশন মিডিয়ার মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ জরুরী। আগে আমরা উভয় দেশের সাংবাদিক এবং মিডিয়া ব্যক্তিদের নিয়মিত সফরের আয়োজন করেছি।

4. 2018 সালে, আমাদের XP division এর মাধ্যমে 25 জন সাংবাদিকের জন্য border familiarization visit ও 25 জন সাংবাদিকের জন্য পরিচিতিমূলক সফরের আয়োজন করেছিলাম। Media house মালিকদের একটি প্রতিনিধিদল গত বছরের মার্চ মাসে ভারত সফর করেছিল। প্রতি বছর 100 সদস্যের Youth delegation-এ আমরা প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করি এবং আজকে তাদের অনেককে দেখে আমি আনন্দিত।

5. আমরা আগামীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এ ধরনের আরও সফরের পরিকল্পনা করছি। আমি আরও বলতে চাই যে, আপনাদের প্রতিবেদনের জন্য যদি তথ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে হয়ত আমি আপনাদের সময় দিতে পারব না, তবে আমার সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না। তারা আপনাদের সাহায্য করতে পেরে খুশি হবেন।

6. আপনারা সবাই জানেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজকে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভাল। গত কয়েক বছরে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে space, IT, electronics, cyber security এবং civil nuclear energy সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় 90 টি agreement স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী 16টি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে ভৈরব ও তিতাস সেতু নির্মাণ, আখাউড়া-আগরতলা রেল লাইন নির্মাণ এবং অতিরিক্ত 660 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ।

7. আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আজ প্রায় 10 বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সীমান্ত হাটের মত অভিনব আয়োজন সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করে তুলেছে। মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ, ভারতীয় সেনা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, পাঁচ বছরের ভিসা এবং মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের development এর committed partner এবং আমরা তিনটি ঋণচুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে 8 বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করেছি।

8. এটি যে কোনও দেশকে সহজ শর্তে দেয়া সবথেকে বড় ঋণের পরিমাণ, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আমাদের যৌথ সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগ আমাদেরকে উভয় দেশের সাধারণ মানুষের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরাও উন্নয়নের পথে আপনাদের সহযাত্রী।

9. আমি প্রায় প্রতিদিন পত্রিকায় নিজের ছবি দেখতে পাই। এটা প্রমাণ করে যে, আপনারা আমার কাজ ও সফরগুলো অনুসরণ করেন এবং আমি আশা করি যে, আপনাদের শুভেচ্ছা সবসময় আমার সাথে থাকবে। আমি এবং আমার সহকর্মীরা আপনাদের সবার সাথে একটি অসাধারণ সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রত্যাশা করি। আশা করি, আজকের সন্ধ্যা আপনাদের আনন্দে কাটবে এবং বাংলাদেশ Youth delegation 2019 এর member দের সংগীত পরিবেশনা enjoy করবেন।

সবাইকে ধন্যবাদ।

****