দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য Statements & Speeches

দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য

ভারতীয় হাই কমিশন

ঢাকা

দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনে হাই কমিশনারের বক্তব্য

[২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯]

শ্রী মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাননীয় সংসদ সদস্য,

স্বামী অমেয়াত্মানন্দ, অধ্যক্ষ, রামকৃষ্ণ মিশন, দিনাজপুর,

শ্রী সত্যনারায়ণ আগরওয়াল, সভাপতি, রামকৃষ্ণ মিশন, দিনাজপুর,

জনাব সৈয়দ আবু সায়েম, সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ,

প্রিয় ভক্তগণ

ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ

এখানে উপস্থিত হতে পারা আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়। আমি দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা আমাকে পাঁচশটি শাড়ির খরচ বহন করার মাধ্যমে এই সমাজ সেবামূলক কাজের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার সময়সূচী অনুসারে শাড়ি বিতরণের সময় পরিবর্তন করার জন্যও তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।

২. স্বামী অমৃতত্ত্বানন্দ এলাকার দরিদ্র মানুষদের পোশাক বিতরণের জন্য এই মহৎ কাজটি শুরু করেছিলেন। রামকৃষ্ণ মিশন এবং রামকৃষ্ণ আশ্রম, দিনাজপুর ১৯২৩ সাল থেকে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এতে শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, দাতব্য এলোপ্যাথিক-কাম-হোমিওপ্যাথিক ডিসপেনসারিসহ দু’টি মোবাইল ইউনিট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রদ রয়েছে।

দরিদ্র ও অভাবী মানুষকে খাবার, পোশাক, কম্বল এবং শিক্ষা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রেখেছে মিশন সেন্টার।

৩. প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে মানবিক, আধ্যাত্মিক, শিক্ষাগত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের শান্তি এবং উন্নয়নে সত্যিকার অর্থে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মূলে রয়েছে আমাদের অভিন্ন ইতিহাস এবং সংস্কৃতি। বাংলাদেশের রামকৃষ্ণ মিশন কলকাতার বেলুড় মঠের সাথে সংযুক্ত এবং আমাদের একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি আদর্শ উদাহরণ।

স্বামী বিবেকানন্দ সেবা ও ত্যাগের আদর্শের উপর জোর দিয়েছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তা ও আদর্শ আজকে আমাদের অনুপ্রাণিত করে ও মনে শক্তি জোগায়। তাঁর কাছ থেকেই আমরা একটি শক্তিশালী, প্রাণবন্ত ও পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা পাই।

শ্রী রামকৃষ্ণের শিক্ষা, “জীবে দয়া নয়, শিব জ্ঞানে জীব সেবা”, এটিই রামকৃষ্ণ মিশনের সেবামূলক কাজের মূলমন্ত্র।

. সামনেই দুর্গাপূজা। প্রার্থনা করি, পূজা ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য শান্তি, সুখ ও আনন্দ বয়ে আনুক। আমি সকলের প্রতি আহবান জানাই, আপনারা দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করুন।

****